সপ্তম পরিচ্ছেদ: সীরাতে মোস্তাকীমের পথে
২২. সীরাতে মুস্তাকিমের পথে:- তিনি বাকেরগঞ্জ থাকা কালিন মুজাদ্দেদে জামান, কুতুবুল আলম, সুলতানুল আওলিয়া, আলহাজ্জ মাওঃ শাহ্সূফী নেছরুদ্দীন পীর ছাহেব ক্বেবলা (রহঃ) বাকেরগঞ্জের কদমতলায় মাহফিলে আসেন (১৯২৭ ইং সনে)। তিনি ছারছীনার পীর ছাহেব কেবলার ওয়াজ শুনে বিমুগ্ধ, পেরেশান হয়ে তার কদমে নিজেকে বিলিন করে দিয়ে, বা’ইয়াত ও তরিকতের ছবক গ্রহণ করেন। তথায় তিনি দীর্ঘ ১৩ বছর খেদমত ও রেয়াজতে লিপ্ত থাকেন। সেখানে তিনি সকল স্তরের ফায়েজ প্রাপ্ত হন, আর তা হল ফায়েজে হালী, ফায়েজে কাওলী ও ফায়েজে ফে’য়েলী। ১৯৩৯ ইং সালে তিনি ছারছীনার পীর ছাহেব ক্বেবলাকে নিজ বাড়িতে আসার বিনয় আরজি পেশ করেন এবং উক্ত আবেদন পীর ছাহেব ক্বেবলা কবুল করেন। এ উপলক্ষে অত্র অঞ্চলে সর্ব প্রথম ঈছালে ছওয়াব মহফিলের আয়োজন করা হয়। সেদিন তাঁর এলাকায় ইসলামের অনুপম নীতি আদর্শ ভুলে যাওয়া মানুষদের ঘুম ভাঙ্গে। এ পথ আল্লাহ পাওয়ার পথ। কলামে হাকীমের ঘোষনা:- আর এটাই আমার সরল পথ। অতএব এ পথের অনুসরণ কর: অন্যান্য পথ নয়। তাহলে তাঁর পথ থেকে ছিটকে পড়বে। তিনি এ আদেশ দিয়েছেন যাতে মুত্তাকী হতে পার। আল্লাহ তায়ালা আরো বলেনঃ তাদের সঠিক পথে চালাতাম।
২৩. মাওলাকে পাওয়ার সাধনা ও খেলাফাত লাভ:- তাকওয়ার ভিত্তিতে গভীর স্বাধনা যিনি জীবনীকাল ব্যয় করেন, তার ফলাফল তিনি পেয়ে যান। বয়াতের পরবর্তীতে প্রতিটি পদক্ষেপ ছিল মাওলাকে পাওয়ার অদম্য বাসনা কলামে হাকীমের ঘোষনা:- বলে দিন, হে মু’মিন বান্দারা! রবকে ভয় কর। দুনিয়ায় নেককারদের জন্য কল্যাণ আছে। আর আল্লাহর জমীন প্রশস্ত। সবরকারীদেরকে বিনা হিসাবে পুরোপুরি পুরস্কার দেয়া হবে। তার পীরের ফয়েজ নিজ মুজাহাদার বিনিময়ে আল্লাহ তায়ালা সরল মনের স্বাভাবিক হৃদয়ের অধিকারী করেন। রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ জান্নাতে এমন একদল প্রবেশ করবে যাদের হৃদয়টা পাখির মত নিস্কুলুষ হবে।
. ﴿ وَأَنَّ هَـذَا صِرَاطِي مُسْتَقِيماً فَاتَّبِعُوهُ وَلاَ تَتَّبِعُواْ السُّبُلَ فَتَفَرَّقَ بِكُمْ عَن سَبِيلِهِ ذ ذَلِكُمْ وَصَّاكُم بِهِ لَعَلَّكُمْ تَتَّقُونَ ﴾. সূরা: ০৬: আনআম : আয়াত-১৫৩
. ﴿ وَلَهَدَيْنَاهُمْ صِرَاطاً مُّسْتَقِيماً ﴾. সূরা: ০৪: নিসা : আয়াত-৬৮
. ﴿ قُلْ يَا عِبَادِ الَّذِينَ آمَنُوا اتَّقُوا رَبَّكُمْ لِلَّذِينَ أَحْسَنُوا فِي هَذِهِ الدُّنْيَا حَسَنَةٌ وَأَرْضُ اللَّهِ وَاسِعَةٌ إِنَّمَا يُوَفَّى الصَّابِرُونَ أَجْرَهُم بِغَيْرِ حِسَابٍ ﴾. সূরা: ৩৯: যুমার : আয়াত-১০
. ﴿ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال: "يدخل الجنة أقوام أفئدتهم مثل أفئدة الطير ﴾. মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-৭৭
পীর ছাহেব হুজুর আগরতলা থাকাকালীন মানুষ ছারছীনার পীর ছাহেব হুজুরকে মাহফিলে আসতে বলে। হুজুর আগরতলা থেকে চিঠির মাধ্যমে দাওয়াত করে। হুজুর চিঠি লিখে বলে এখন তুমি মাহফিল করে যাও আর বয়াত করাও আমি পরে আসবো।
তিনি তাঁর পীর ছাহেব কেবলা (রহঃ) এর কাছে দীর্ঘ ১৩ বছর খেদমতে লিপ্ত থাকার পাশা পাশি আধ্যাতিœক সাধনা করে বিশ্ব বিখ্যাত চার তরীকার ছবকাদি পরিপূর্ণ শেষ করেন। তাঁর এলাকায় হেদায়েতের জন্য তাঁকে পাঠিয়ে দেন। ছারছীনার পীর ছহেব ক্বেবলা এলাকার গণ্যমান্য সকলের নামে এ মর্মে চিঠি পাঠালেন- আজ থেকে আব্দুল গনীকে “সূফী” সাহেব বলে ডাকবে, আমি তাকে খেলাফাত দিলাম। (সকলে খেলাফতের বিষয়টি স্বতঃপূর্ত ভাবে মেনে নিলেও, সুলতান আহমাদ নামক এক ব্যাক্তি বিষয়টি স্বাভাবিক ভাবে গ্রহণ না করে উপহাস করে। রাতে তার শরীর অবশ হয়ে যায়, সকালে বাড়ির লোক জন সূফ সাহেব হুজুরের কাছে নিয়ে আসলে, সে ক্ষমা চায়, তিনি দোয়া করলে সম্পূর্ণ সু¯’ হয়ে বাড়ি ফিরে)। বা’ইয়াত হওয়ার প্রায় ২০ বছর পর ছারছীনার দাদা হুজুর কেবলা নাঙ্গলকোট বাজারে মাহফিলে আসেন। তাঁকে মাহফিলে ওয়াজ করার নির্দেশ করেন। তিনি ওয়াজ করলেন। ছারছীনার দাদা হুজুর ক্বেবলা স্টেইজে এসে নছিহত করেন। পরিশেষে বলে¬ন:- আজ থেকে আব্দুল গনীকে সূফী সাহেব বলে সম্বোধন করবেন। ছবকাদি পরিবর্তন ও ছারছীনার যাবতীয় বিষয়ে তার সাথে পরামর্শ করবেন। ছারছীনার পীর ছাহেব ক্বেবলা শাহ্সূফী নেছারুদ্দীন আহমাদ রহঃ প্রথমতঃ আমাদের পীর ছাহেব হুজুরকে খেলাফাত দিয়ে এলাকায় চিঠি লেখেন। দ্বিতীয়তঃ ছারছীনার পীর ছাহেব কেবলা শাহ্সূফী নেছারুদ্দীন আহমাদ রহঃ এর ইন্তেকালের বেশ কিছুদিন পর মৌকরার হুজুরের খেলাফাতের কথা শুনি। আমাদের এলাকায় ছারছীনার ২জন খলিফা হওয়ায় আমরা খুশি।
হুজুরের বড় ছেলে মাত্র হয়েছে:- ছারছীনার পীর ছাহেব কেবলা শাহ্সূফী নেছারুদ্দীন আহমাদ রহঃ তিলিপ দরবার শরীফে আসে। আমরা সকলে যাই, হুজুর পুরুষদের ও পর্দার আড়াল থেকে মহিলাদেরসহ আমাদের বয়াত করান। এরপর নছিহত করে শেষে বলেনঃ আজ আপনারা কার হাতে বয়াত নিলেন। আমরা বল্লাম আপনার হাতে। হুজুর বল্লেন, এরপর থেকে ছুফী আব্দুল গনির হাতে বয়াত নিবে। আমার জোতা তার কাছে রেখে গেলাম।
ছারছীনার দরবারের প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল আল্লামা শাহ্সূফী নেছারুদ্দীন আহমাদ রহ. এর পক্ষ থেকে খিলাফাতের নিদর্শন স্বরূপ এক জোড়া জুতা ও নাফেউল খায়রাত নামের একটি কিতাব উপহার দেন। উক্ত কিতাবের সহযোগীতা নিয়ে অনেক মানুষের বিভিন্ন সমস্যার সমাধান দিতেন, তবে হাদিয়ার বিষয়ে কোন কথা বলতেন না, হাদিয়ার বিষয়ে কেউ জিজ্ঞেস করলে রাগ হতেন।
খেলাফাত প্রাপ্তির পর অত্র এলাকার কল্যাণের বার্তবাহী এক মহাপ্রাণ হিসেবে আর্বিভূত হন। তখন তাঁর সাথে এলাকার নির্বোধদের বিশ্রি আচরন করে। তাতেও তিনি দমে যাননী। বেলায়াতের গুরুভার বহন করে ধৈর্য ধরেন, তারপর নিজ পীরের নির্দেশে ভারতের আগরতলায় হিজরত করেন।
২৪. ফানা ফীশ শায়েখ:- যার কাছে পাওয়া যায় স্বর্ণালী জীবন, তার প্রতি দায়িত্ববোধ অকুন্ঠ খেদমত ও নির্দেশ মেনে চলা শায়েখের হক। কালামে ইলাহীর ঘোষনা ও তাই- উম্মী নবীন অনুসরণকারীরা তাঁর কথা তাওরাত ও ইঞ্জিলে লিখিত পা”েছ। যিনি তাদেরকে ভালকাজের আদেশ ও মন্দকাজের নিষেধ করেন, তাদের জন্য পবিত্র ব¯‘ হালাল ও অপবিত্র বস্ত হারাম করেন, তাদেরকে ভারমুক্ত ও শৃংখলমুক্ত করেন। অতএব যারা তার প্রতি ঈমান আনে, তাকে সম্মান ও সাহায্য করে এবং তাঁর সাথে প্রেরিত নূরের অনুসরণ করে, তারাই সফলকাম।
আমার পীর সূফী আব্দুল গনি (রাহঃ) অত্র এলাকার সর্ব প্রথম মুরিদ। তাঁর পিতার ও নিজের কিনা জমি বিক্রি করে মানুষদের হেদায়েতের লক্ষ্যে ছারছীনায় নিয়ে যায়। যারা পরবর্তিতে তরিকতপš’ী ভাই হয়ে বিভিন্ন ¯’ানে মাদ্রাসা, মসজিদ, দরবার প্রতিষ্ঠা করেন। (বিশেষতঃ- মৌকরার পীর ছাহেব কেবলা, বদরপুরের হুজুর, মৌলভী হাছানুজ্জামান খান সাহেব, হাজী আফসারুদ্দীন, হাজী মোজাফফর আহমদ প্রমূখ)।
ছারছীনার হুজুর মাঝে মাঝে আমাদের হুজুকে দিয়ে ছারছীনা থেকে অনেক দূরে এক বিধবা মহিলার জন্যে টাকা দিত, যে মহিলা হুজুরের হাতে মুসলিম হয়। ঐ মহিলার বাড়ীতে যেতে অনেক কষ্ট হতো। অনেক সময় কমর পানিতে হেটে যেতে হতো।
২৫. তাঁর খেলাফাতের ¯’লাভিষিক্ত:- তিনি ছারছীনা শরীফের পীর ছাহেব, কুতুবুল আলম, মোজাদ্দেদে জামান, আলহাজ্জ মাওঃ শাহ্সূফী নেছারুদ্দীন আহমদ (রাহঃ) এর থেকে খেলাফাত প্রাপ্ত হন। পরবর্তীতে নিজ দরবারের ¯’লাভিষিক্ত বা গদ্দিনিশীন [মোন্তাজিমে দরবার]:- করেন তাঁর পুত্র আলহাজ্জ মাওঃ শাহ্সূফী আবু ছালেহ মোঃ রুহুল আমীন ছিদ্দিকী (মাঃজিঃআঃ) পীর ছাহেবকে।
হকের পথে বয়াত-শপথ ও তার ধারাবাহীকতা রাখা মুমিনের কর্তব্য। এ ধারা কেয়ামত পর্যন্ত চলবে। মালিকের ভাষ্য:- নিশ্চয়ই আপনার হাতে বাইয়াতকারীরা আল্লাহর কাছেই বা’ইয়াতকারী। আল্লাহর হাত তাদের হাতের উপর। সুতরাং ওটা ভঙ্গকারী নিজের ক্ষতি করে। আর আল্লাহর ওয়াদা পূরণকারীকে অচিরেই মহাপুরুস্কার দিবেন।
তিলিপ পূর্বপাড়ার দাদা হাজী রু¯‘ম আলী বলেন:Ñ হুজুর জীবিত থাকতে একবার আমি জিজ্ঞেস করি আপনার পরে আমরা কার কাছে যাব। তখন হুজুর আমাকে বলেছেন;- আমার ছোট ছেলে মাওঃ রুহুল আমীন, সে আমার ¯’ানে থাকবে তোমরা তার কাছে আসবে।
দাদা হুজুর আমাকে অসীয়ত করে বলে: তুমি শিক্ষিত ছেলে তোমাকে একটা কথা বলি:- আমার পরে সব সময় তোমার ছোট কাকার সাথে থাকবে। (মাওঃ রুহুল আমীন )।
২৬. আধাঁর কেটে আলো:- আমি দেখা করতে আসি, তিলিপ দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলাকে নিজ খানকার সামনে সামান্য পাকা¯’ানে জিকিরে রত। পীর ছাহেব হুজুরের জিকিরের মাঝে ভূমিকম্পের মত খানকার টিনসেডঘর জমিনসহ কাঁপা শুরু হল (তালগাছ ছিল যে গুলো বিনা বাতাসে বেশী নড়ছে) । পরে গিয়ে সালাম দেই, হুজুর জিকির বন্ধ করে সালামের জবাব দিলে কাঁপা ও বন্ধ হয়ে যায়। সবচেয়ে বড় কারামত হল আমি ও আমার পরিবার নামাজী ও দ্বীনদার হওয়া। হকের ঝান্ডাবাহী তার দাওয়াত দিয়ে যাবে, সুপথপ্রাপ্ত শুকরীয়া আদায় করবে। আল্লাহ বলেন: অতএব যারা আল্লাহর প্রতি ঈমান আনে তাকে শক্তভাবে ধরে রাখে আল্লাহ তাদের নিজের রহমত ও অনুগ্রহে ¯’ান দিবেন এবং সরল পথে পরিচালিত করবেন।
২৭. প্রাথমিক অব¯’ায় বিদ্রুপের স্বীকার:- তাঁর পীরের হাতে বা’ইয়াত হওয়ার পর এলাকায় এসে দাওয়াত দেওয়ায় অনেকে ঠাট্টা বিদ্রুপ করতো। তবুও তিনি দমে যাননি, নবীওয়লা দায়িত্ব নির্দ্বিধায় চালিয়ে যান। আল্লাহ বলেন: হায়, আফসোস বান্দাদের জন্য! তাদের কাছে রাসূল আসলেই তাঁর সাথে ঠাট্রা বিদ্রুপ করত।
২৮. পীর ভক্তি:- ছারছিনা দরবার শরীফের দাদা পীর ছাহেব কেবলার হাতে বয়াত হওয়ার পর থেকে তার প্রতি দায়িত্ববোধ ও নিরবি”ছন্ন খেদমতের পাশাপাশি সকল নির্দেশ মেনে চলতেন। খানকার সামনে জুতা পায়ে হাটতেন না। ছারছীনা পড়া কালীন দাদা পীর কেবলা পাশের গ্রামে লজিং দেন, একবার সেখানে এক ব্যাক্তি পানি পড়া নিতে আসলে কামল জামাতের এক ছাত্র বলে, সে ছোট! আমার কাছে আসেন। তখন আমাদের হুজুর দূর থেকে ফূঁ দেয়, প্রথম ফূঁ তে গ্লাস গরম হয়। দ্বিতীয় ফূঁ তে কাঁচের গ্লাস ফেটে যায়। এর পর দাদা পীর কেবলা আমাদের হুজুরকে দরবারে রেখে দেয়। আর লজিংয়ে থাকতে দেয় নাই।
২৯. তিলিপ দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব (রহঃ) এর আদব:- ছারছিনা দরবার শরীফের দাদা পীর ছাহেব ক্বেবলার হাতে বা’ইয়াত হওয়ার পর নিজ পীর ও ছোট হোক কিংবা বড় হোক সকলের সাথে আপনি বলে সম্বোধন করতেন। মাওলায়ে কারীম বলেন: ভাল ও মন্দ সমান নয়, ভাল দিয়ে মন্দকে হটিয়ে দিবে। দেখবে তোমার শত্রু অন্তরঙ্গ বন্ধু হয়ে গেছে।
হুজুর ছারছীনা দরবারের (কুতুবখানা) সামনে জুতা পায়ে হাটতেন না। ক) নিজ পীরের দরবারে সব সময় নামাজে সূরাতে বসতেন। খ) সকলকে আপনি বলে সম্বোধন করতেন। আলেমদের সম্মান করতেন। গ) তাঁকে তাঁর পীর ভারতের আগরতলা সহ দূর-দূরান্তে পঠিয়েছেন। কখনো না সূচক মনোভাব দেখাননি। ঘ) দরবারে অব¯’ানকালীন সময়ে পোষাক-পরি”েছদ, চাল-চলন অতি সাধারণ ছিল এমন কি জুতা না দেখা মত রাখতেন। সব সময় নিজ পীরের নির্দেশের অপেক্ষায় থাকতেন।
আলহাজ্জ মাওঃ শাহসূফী আব্দুল গনী (রাহঃ) এর আদব বিস্তারিত তাঁর অসিয়াত ও নছিহাত নামক কিতাবে উল্লেখ করা হবে- ইনশা আল্লাহ। মাহফিলের সময় হুজুর ছারছীনার- ফুরফুরার হুজুরদেরকে দিঘিরপাড় পর্যন্ত গিয়ে এগিয়ে আনতো। অনেক সময় হুজুরেরা হেটে আসতো কিংবা গাড়ীতে উঠিয়ে আনতো।
৩০. মুকাম্মিল সাধক:- নিজ পীরের দরবারে ১৩ বছর থেকে বিশ্ব বিখ্যাত চার তরীকার পরিপূর্ণ সাধনার পর যখন এলাকায় সম্পূর্ণ দাওয়াতী মিশন নিয়ে আসেন। তখন তাঁর পীর ক্বেবলা, তাঁকে একাধারে বাড়িতে ৬মাস জিকিরে থাকার নির্দেশ দেন। মূলত তখনি তিনি তরীকতের শেষ তরিতে পাড়ি দেন। নবী-রাসুলদের মতো পৃথিবীকে পরকালে শান্তির বাহন মনে করতেন। কখনো তাঁকে এর পংকিলতা তাঁর গায়ে লাগেনী। প্রার্থীব মনোলোভা ও মোহনীয় ব¯‘র আকর্ষণ করেনী। রাব্বুল আলামীনের বানী: তোমাদের কি ধারণা যে, বেহেশতে যাবে? অথচ আল্লাহ এখনো জেনে নিবে না যে, তোমাদের কারা মুজাহিদ আর কারা সবরকারী।
ছারছীনার দাদা হুজুরের বড় মেয়ের ছেলে মাঝে মাঝে আসতো:- আমি উনাকে প্রশ্ন করি আপনি এখানে অনেক আসেন। আরোতো অনেক দরবার আছে আপনি যান না। তখন তিনি বলেন:- আমার নানার ঘ্রাণ সূফী আব্দুল গনি পীর ছাহেবের কাছে আছে। এ জন্যই এখানে আসি। আর আমার নানা অনেককে খেলাফাত দিয়েছেন, খেলাফাতের পাশাপাশি ছুফী খেতাব দিয়েছে মাত্র ৫জনকে। তার মধ্যে তিনি অন্যতম।
একবার আমি, মোহাম্মাদ আলী দরবেশ, আব্দুস সালাম বলী মিলে তালিমের তাবারুক পাকাই। নুন চাইলে দেখলাম এ পরিমাণ ঝাল হইছে যে, মুখে নেওয়া কঠিণ। আমরা ভয় পাই কি করবো, হুজুর আসার পর হুজুরের হাতে দিই। হুজুর খেয়ে বলে আলহামদুলিল্লাহ, আমরাতো আশ্চার্য হুজুর কি বলে। এতো জনে চাইলাম এতো ঝাল আর হুজুর বলে আলহামদুলিল্লাহ। পরে আমরা আবার খাই, দেখলাম এত স্বাধ যে, কল্পনা করতেই গা শিহরে উঠে।
আমাকে আমার দাদা সুজ্জত আলী বলেন:- আমাদের হুজুর আগরতলা থাকা কালীন জমিদার সিরাজ মিয়ার বাড়ীর কাছাকাছী মাহফিল দেয়। মাহফিল শুনে সিরাজ মিয়া বলে আমি তার আংগার (লম্বা জামা) ছিড়ে ফেলবো। কাছাকাছী যাওয়ার পর লোকজন আটকাতে চাইলে আমাদের হুজুর নিষেধ করে বলেন, আসতে সুযোগ দাও। সে এসে পায়ে পড়ে মাপ চায়। এমন ফয়েজ দেয়, যার ফলে গুনাহের কথা বলে নিজের জুতা দিয়ে নিজ গালে বাড়ি দিতে দিতে রক্ত বের করতো। বাড়ি গিয়ে ৮জন স্ত্রীর মধ্যে ১জন রেখে বাকীদের তালাক দেয়। পানি পড়া নিয়ে গোসল করে। ২২ দোরন সম্পত্তি ছিল (সম্ববতঃ ১ দোরন=২০ কানি)। ১ দোরন বিক্রি করে মানুষের হক বুঝিয়ে দেয়।
একদিন জাদু [হুজুরের মা] বলেন: আমার ছেলে কি আমল করে যে রতে যখন বাড়িতে আসে তখন দুর থেকে দুইকাধেঁ দুইটি বাতি জলতো।
বিবাহের পর আমার ৫সন্তান মারা যায়, একদিন আসলে বলে তোমার শেষ সময়ে কয়েকটা ছেলে হবে ইনশা আল্লাহ। কিছুদিন পর ছেলে হলে সাথে সাথে দেখা করতে আসি। আমি এখনো দূরে হাজী ইউনূছ বসা, উনি আমার দিকে বারবার চা”েছ। কারণ জিজ্ঞেস করলে বলে আপনি আসার আগে আপনার ছেলে বিষয়ে হুজুর বলে: আমার ভাগিনার ছেলে হইছে তার নাম রাখলাম খুরশিদ আলম। আসার পর হুজুর এ নামে দোয়া করে। ২য় ছেলে হওয়ার আগে খবর দেয় এবং নাম রাখে খাজির আ. এর নামে।
৩১. সুন্নাতে নববীর পথে:- খিলাফাত প্রাপ্তির পর সমাজের মানুষদের বিজাতীয় সভ্যতা ছেড়ে সূন্নাতে নবীর পথে জোরালো ডাক দেন। তিনি তাঁর পীর ছাহেব কেবলা (রহঃ) এর নির্দেশে মুসলমানদের টিকির পরিবর্তে টুপি, দূতির পরিবর্তে লূঙ্গী/পায়জামা, শ্রী শব্দের পরিবর্তে মোহাম্মদ নামের প্রচলন করে তাজদীদী প্রদক্ষেপ গ্রহণ করেন। বিশেষতঃ- ভারতের আগরতলায়, ত্রিপুরায় উদয়পুর, উমরপুর, ২৪ পরগনা, কুমিল্ল¬া, নোয়াখালী, আখাউড়া, পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়িতে। পরবর্তীতে তাঁর এ অক্লান্ত প্রচেষ্ঠার ফলে উপমহাদেশের পূর্ব দক্ষিণ প্রান্তে ইসলামী তাহযিব-তামাদ্দুনের নব দিগন্তের সূচনা হয়।
তিনি প্রায় বলতেন: রাসূল সা. এর আদর্শই উত্তম আদর্শ। আর তা নিজে মান্য করা অন্যকে এ আখলাকে অভ্যস্ত করানো আমাদের দায়িত্ব। কালামে আ’লীতে তাই নির্দেশ করে। আল্লাহ ও আখেরাত আকাংখী এবং আল্লাহকে বেশী বেশী স্মরণকারীদের জন্য রয়েছে আল্লাহর রাসূলের মাঝে উত্তম আদর্শ।
আমাকে লম্বা জামা পরার নির্দেশ দেন কিš‘ আমি গড়িমশি করি। একবার হুজুরে কাছে আসলে আমার সার্ট ছিঁড়ে হুজুর নিজের জামা দিয়ে বলেনঃ এখন থেকে এ জামা পরে চলবে।
৩২. কামেল পীর:-একবার হুজুর আমাকে চিশতীয়া তরীকার নিয়মে আয়াতের মোরাকাবা দিলে আমি মনে হয় যেন উপরে উঠে যা”িছ। দেখি সুন্দর পোষাকধারী একজন। বর্তমান হুজুরকে বল্লে বলেন- তিন হযরত মঈনুদ্দীন চিশতী রহঃ।
চলবে...........