তিলিপ দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব কেবলার জীবনী পর্ব-০১




صلى الله عليه وسلم   


সূচীপত্র-সংক্ষিপ্ত জীবনী-

লেখকের কথা

বিশ্ব বিখ্যাত চার তরীকার মুকাম্মিল সাধক, তিলিপ দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলা, আমাদের মুর্শিদ মুহতারাম আল্লামা আলহাজ্জ মাওঃ শাহসূফী আব্দুল গনী (রাহঃ) এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি বর্ণনা করার স্বপ্নে যখন বিভুর তখন তাঁর জীবনী তালাশে নিজ জীবনের মোড় নেয় অনন্য উ”চতায়, যদি তা হয় চলমান তা তাঁর জীবনী লিখা গবেষনার ফলেই।

আমি অনুসন্ধান ও গবেষনায় তাঁর জীবন ও পরহেযগারির তরীতে কিঞ্চিত বিচরন করি। এতে তার মহত্ত¡তা ও মর্যাদার উপায়-উপকরণ আত্ত¡¯’ করি। জানতে পারি, কীভাবে তিনি অন্তরকে বশিভুত করেন। কীভাবে ছিলেন পার্থিব মনোলোভা ব¯‘ পরিত্যাগ করে শরীয়ত পালনে একনিষ্ঠ । তিনি রাতের ঘোমকে সালাতের আলোয় জাগিয়ে রাখতেন। দিনের সময় রোযা কিংবা নিরবে মালিকের পাণে কাটাতেন। পেটকে কীভাবে রেখেছেন সন্দেহযুক্ত খবার মুক্ত।ইখলাছ তার মর্মমূলে আঘাত করে, সদা রুগ্ন ব্যাক্তির মতো তড়পাতেন। প্রভুর ভয়ে অবুঝ শিশুর মত কেঁদে দিতেন, মনে হয় এ পানিতে পাপতাপ পাকসাফ। তার শরীর কত অভিযোগ করতেন তাঁর ইয়ত্তা নেই। তার কথামালা হৃদয়-মন চিঁড়ে হতো খানখান, তাঁর আমল হতো বিবেকের রক্তক্ষরন হয়! কি করলাম।তবে এ মনে আফসুস কিছুটা হলেও উপসম করার ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যা”িছ যে, বর্তমান শতাব্দির একজন ধর্মীয় নিরব বিপ্লব সাধনকারী সাধকের জীবনী নতুন প্রজন্মের হাতে তুলে দিয়ে। যিনি অনুজদের কাছে নামে বেশ পরিচিত তবে কর্মে অনেকটা অপরিচিত। কারণ কিছু নতুন বক্তা ইসলামকে মনেহয় বাপ দাদার সম্পদের মত পেয়ে এ উপমহাদেশে সকল পীর মাশায়েখদের অস্বীকার করে, সময় সুযোগ মত সমালচনা করে নতুন থিম উপ¯’াপন করছে।একটি জীবন,একটি আদর্শ,অনুপ্রেরণার উৎস


বিশ্ব বিখ্যাত চার তরীকার মুকাম্মিল সাধক, তিলিপ দরবার শরীফের পীর ছাহেব কেবলা, আমাদের মুর্শিদ মুহতারাম আল্লামা আলহাজ্জ মাওঃ শাহসূফী আব্দুল গনী (রাহঃ) এর সংক্ষিপ্ত পরিচিতি।


প্রথম পরি”েছদ: প্রাক-কালাম


ﺍﻠﺤﻤﺪ ﻟﻟﻪ ﺮﺐ ﺍﻠﻌﺍﻟﻤﯾﻦ ﻮﺍﻠﺼﻟﺍﺓ ﻮﺍﻠﺴﻠﺍﻢ ﻋﻟﻰ ﺍﺸﺭﻒ الأنبياء ﻮسيد ﺍﻠﻤﺭﺴﻟﻴﻦ ﻮﻋﻟﻰ ﺍﻠﻪ ﻮﺍﺼﺣﺍﺒﻪ ﺍﺠﻤﻌﻴﻦ

সকল প্রশংসা বিশ্ব জাহানের পালনকর্তার। দূরুদ ও সালাম সকল নবীর শ্রেষ্ঠ নবী মুহাম্মাদ صلى الله عليه وسلم এর প্রতি, ঈমানী চেতনায় উজ্জিবিত সকল মো’মিন ও তরীকার খেদমত করে মানুষের মাঝে আল্লাহ তা’য়ালার মুহাব্বত সৃষ্টিকারীদের প্রতি।

ইসলামের যাবতীয় বিষয় জানতে হলে কমপক্ষে একজন আলেমের ছোহবতে থেকে শিখতে হয়। যে আলেমের নিকট যাবে তিনি আল্লাহকে চিনার এলেম  ও আমল থাকতে হবে।  আল্লাহ তা’য়ালা বলেন-  তুমি তাঁর অনুসরন কর, যারা খালেছ ভাবে আমাার (আল্লাহর) দিকে রুজু হয়েছে।[১] আমার দিকে ফিরে আসা ব্যক্তির পথ অনুসরণ করবে। অবশেষে আমার কাছেই ফিরতে হবে। মুমিমদের নেক আমলের প্রতি উৎসাহ কল্পে আল্লাহ তায়ালা জীবনী বর্ণনা করে বলেনঃ- ওহীর মাধ্যমে এ কুরআন নাযিল করতে আমি আপনার কাছে সর্বোত্তম কাহিনী বর্ণনা করছি।[২] এরপর আল্লাহ তায়ালা আরো বর্ণনার করেনঃ- জিজ্ঞাসাকারীদের জন্য ইউছুফ ও তার ভাইদের ঘটনায় অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে।[৩] আল্লাহ তায়ালা আরো বলেন এতে জ্ঞানবানদের শিক্ষা রয়েছেঃ- তাদের কাহিনীতে বুদ্ধিমান লোকদের জন্য শিক্ষা রয়েছে।[৪]এ ধারাবাহিকতায় হকের ঝান্ডাবাহীদের জীবনী বর্ণনা করার মাঝে উত্তম জীবন গঠণ করার উৎসাহ পায়। তিলিপ দরবার শরীফের মরহুম পীর ছাহেব কেবলা আলহাজ্জ মাওঃ শাহ সূফী আব্দুল গনী (রাহঃ) অবশ্যই শরীয়তের উপর পূর্ণ অটল অবিচল আমলী আলেম, পীর,সূফী-সাধক ছিলেন। তিনি দীর্ঘ হায়াত লাভের ফলে। তিনি ভারতীয় উপমহাদেশের ধর্ম প্রচারকদের অন্যতম একজন। যার আদর্শ চাল-চলন রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم এর মুজা”ছাম (সুন্নাত) নমুনায় গড়া। অত্র অঞ্চলে তার পরেহেযগারী, বাদ্যনতা,মর্যদায় উপমামেলা কঠিণ, চারিত্রিক গুনে অনন্ন উ”চতায়, সুস্পষ্ঠ কথামালায় প্রতিষেধকতূল্য, নীরবতা ছিল সৃষ্টি নিয়ে গভীর গবেষনা। প্রতিটি ধনীতে ছিল তাসবীহ পাঠ। মজলিশ ছিল জিকিরের। নিজের হাতে থাকা সহায়-সম্বলের চেয়ে আল্লাহপাকের ভরসা ছিল অগাধ। হৃদয় প্রভুর ভীতি ছিল চোখে পড়ার মত। ফলে অন্য জনের উপর তাঁর ভয়ের প্রভাব পড়ে। নিজের অন্তর আলোকিত করেছেন জিকরুল্লাহর প্রদিপ শিখায়। রাত নির্ঘোমে কাটার নামাজ, দোয়া তাসবীহ ধ্বনীতে। মৃত্যু চিন্তা তাকে নিরব”িচন্ন আনন্দ কিংবা সুখের ছোয়ায় রাখতে পারেনী। তিনি অর্থের পিছনে গুরে অর্থের গোলাম হন নাই বরং অর্থ তাঁর গোলাম হয়েছে। তাঁর কাছে কখনই অর্থই সব না হয়ে আমলই সর্বেসর্বা হয়েছে। তার স্বভাব-চরিত্রের মাধুর্যতায় অগনিত লোক স”চরিত্রের সুরভিতে যুগ সুভাসিত হয়েছে। জীবনের পরিতৃপ্ত ছিল তাওয়াক্কুল একিনের উষ্ণতায়। আল্লাহ ও তার হাবীবের সুন্নাহ পালনে কারো নিন্দা পাত্তা দিতেন না। জালিমের রক্ত চক্ষুর সামনে সত্য প্রাকাশে কুন্ঠিত হতেন না। তার হৃদয় চায়ের করতো জমিন তক আরশ। তাঁর আমল তাদের কল্পনাকে হার মানিয়েছে যে, ইতিহাস তার পরবর্তীদের নিকট জীবন চরিত বর্ণনা করবে।তিনি সুফিদের স¤্রাট, গরিবের বন্ধু, হতদরিদ্রদের সঙ্গী হতেন, তিনি সমাজের পূণ্যবানদের ইমাম, সর্বাপেক্ষা উদারহস্ত দানশীল, সর্ববা¯’ায় সত্যভাষি। তাঁকে দেখামাত্র শ্রদ্ধাবোধ কাজ করতো, তার সাথেই মিশলে হৃদয় শান্ত হতো, তার মাঝে মহত্তে¡র গুনাগুনের অভাবনীয় সমাবেশ ঘটে যে, দূর্লব সাহসিকতা, তীক্ষè বিচক্ষনতা, আলোচনায় সাবলীল বিশুদ্ধ বাচনভঙ্গি, গভীর বিজ্ঞতা, উপমাহীন সহিষ্ণুতা, দৃষ্টান্তহীন গাম্ভীর্যতা, মনছুর হেল্লাজের তসবীহ জপা, এলমে লাদুন্নীর আকর, তার আগমন থেকে ইহলীলা সংবরণ পর্যন্ত জীবনকাল দিবালোকের ন্যায় উজ্জল। তার বৈশিষ্ট্য ও গুনাবলী সমাজের প্রত্যেক দিনকে নতুনত্ব দান করতো।

যিনি দ্বীন প্রচারে ভারতের আগরতলায়, ত্রিপুরায় উদয়পুর, উমরপুর, ২৪ পরগনা, কলিকাতায় (১৯৪১- পূর্ব সময়ে)। কুমিল্ল­া, ব্রাক্ষণবাড়িয়া, ফেনী, নেয়াখালী, আখাউড়া, হবিগঞ্জ, বাকেরগঞ্জ বরিশাল, পার্বত্য জেলা রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি (১৯৬৮) সহ বাংলার আনাচে-কানাচে দ্বীন প্রচারে জীবন অতিবাহিত করেন। দেশ বিভাগের পর যাতায়াত বাধাগ্রস্ত হওয়ায় শেষ জীবনে নিজ ভূমিতেই দ্বীনের কাজ করে যান। যার ফলে পথ হারা, দিশেহারা মানুষ সঠিক পথের সন্ধান পায়। হিন্দুয়ানা প্রথা ছেড়ে ইসলামী প্রথায় অভ্য¯’  হয়।

রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ উত্তম মানব সে যার দীর্ঘ জীবন এবং সুন্দর আমল [৫]।   


                                দ্বিতীয় পরি”েছদ: সংক্ষিপ্ত পরিচিতি

নাম:- আলহাজ্জ হযরত মাওঃ শাহ্সূফী আব্দুল গনি পীর ছাহেব কেবলা (রাহঃ)

ঠিকানা:- গ্রাম:- তিলিপ, ডাকঘর:- তিলিপ মাদ্রাসা, উপজেলা:- নাঙ্গলকোট, জেলা:- কুমিল্লা, দেশ:- বাংলাদেশ।

১.      জন্ম:- ততকালিন ত্রিপুরা রাজ্যের কুমিল্লা জেলার চেীদ্দগ্রাম বর্তমান নাঙ্গলকোট উপজেলায় এক প্রাজ্ঞ ও বিদগ্ধ বিখ্যাত সূফী বংশে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি হলেন সূফি বংশের উজ্জল তারকা। যার জন্ম অনাথ হয়ে বেঁেচ থাকা। তিনি  ১৯০১ খ্রিষ্টব্দের কাক ডাকা ভোরে সকলের মুখে হাসি ফুটিয়ে জন্ম গ্রহন করেন। তিনি হিন্দুয়ানা শিরকি ও কুসাংস্কৃতির ঘুটঘুটে রাতের অবসানকারী প্রভাত নিয়ে আগমন করেন। তাঁর জন্ম অত্র অঞ্চলে ইসলামের পূনঃজাগরনের বর্তাদেয়। মানুষ জন্মিবে জীবনকাল বিভিন্ন আকৃতি ধারন করবে এটাই মনিবের চিরন্তন সিদ্ধান্ত। আল্লাহ তায়ালা বলেন:- তিনিই তোদেরকে ক্রমান্বয়ে মাটি, বীর্য ও জমাট রক্ত হতে সৃষ্টি করেছেন। এর পর শিশুরূপে ভূমিষ্ট করেন। এরপর যাতে তোমরা যুবক ও বৃদ্ধ হও। যদিও কেউ কেউ তার আগেই মারা যায়। আর যাতে একটি নির্ধারিত সময়কালে পৌঁছতে এবং বুঝতে পার।[৬]

২.      শারীরিক গঠন- আকৃতি:- মরহুম পীর ছাহেব ক্বেবলা ছিলেন থিন মাঝারী গড়নের  ক্ষীনকায় ও পাতলা শারীরীক গঠনের। হালকা গড়নের গাঢ় তমাটে রংয়ের। মুখভর্তি সুন্দর দাঁড়ি, তিরোধান অবধী সবকটি দাড়িঁ শুভ্র হয় নাই। বিখ্যাত ছাহাবী আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) যেমনটা ছিলেন।

৩.     পূর্ব পুরুষদের পরিচয় ও আবাস ¯’ল:- পিতা:- ইসলামী নিতি আদর্শের বংশধর মুন্সি মোঃ আরব আলী। দাদাঃ- মুন্সি মোঃ তমীজ উদ্দীন, তাঁর বড় ছেলে মুন্সি তোরাব আলী বড় জেঠা যিনি বড় ছুপী নামে প্রশিদ্ধ। যিনি বিজয়করার সূফী সাহেবের খলিফা। উনার ছাত্র ও খলিফা নারান্দিয়ার মাওঃ কলিমুল্লাহ। তিনি মাঝে তার কবর যিয়ারতে করতে তিলিপ আসতেন। তিনি আবার ভারতের মাওঃ হুসাইন আহমদ মাদানীর ও খলিফা।একবার বড়ছুপি সাহেবের কবরে বেয়দবী করলে রাতে আমার গলা ফোলে যায়। সকালে পীর ছাহেব হুজুর পানি পড়া দিলে আমি সু¯’ হই।[৭]

রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم কে প্রশ্ন করা হলো উত্তম মানুষ কে তিনি বলেনঃ ইউছুপ (আঃ) আল্লাহর বন্ধু নবী ইব্রাহিম আঃ এর পুত্র নবী ইসহাক আঃ এর পুত্র নবী ইয়াকুব আঃ এর পুত্র হল উত্তম।[৮]পূর্ব পুরুষদের আগমন ও আবাস¯’লের বিষয়ে যতদুর অনুসন্ধান ও গবেষনা করে জানাযায়, তাঁর পূর্ব পূরুষ আরবভুম থেকে ইসলাম প্রচারে সাগর-নদী ডিঙ্গিয়ে ততকালীন ডাকাতীয়া নদীর মোহনায় বেল্টা নামক গ্রামে বসবাস শুরু করেন। পরে কালের পরিক্রমায় তিলিপ গ্রামে ¯’ায়ী নিবাস গড়ে তুলেন।[৯]

৪.      মাতাঃ- রাব্বান বিবি (ফরায়েজী বংশ), জাদু [হুজুরের মা] অনেক আমলি ছিল। সারাক্ষণ ইবাদতে দেখতাম।[১০] আল্লাহ বলেন:-হে মানুষ! আমি তোমাদেরকে এক পুরুষও নারী হতে সৃষ্টি করে বিভিন্ন জাতি ও গোত্রে বিভক্ত করেছি, যাতে তোমরা পরস্পর পরিচিতি হও। পরহেজগারই আল্লাহর কাছে নিশ্চিত বেশী সম্মানিত। নিশ্চয়ই আল্লাহ সবজান্তা সব কিছুরই খবর রাখেন।[১১] এ সন্তানই পরবর্তীর জাতী জাগানিয়া আগামির পীর আব্দুল গনী। আজ এমন রতœগর্ভা মায়ের বড়ই অভাব।  এ সমাজ সংস্কারকের মাতা হলেন বিদুসী রমনী। যিনি পূর্ণ যৌবনা অব¯’ায় তার স্বামীকে হারান। এ জীবন

৫.      পিতার ইন্তেকাল:- শিশুকালে মাত্র ৪ বছর বয়সে সৃষ্টি জগতের অপরূপ শোভা বাবা-মায়ের অকৃত্তিম হাসি বুঝার আগেই তাঁর প্রিয় পিতাকে হারান। এমনটা প্রায় অলীদের ক্ষেত্রে প্রতিফলিত হয়েছে। তবে এ অবনীতে পিতৃহীনতায় তাঁর কৌতহলী হাসি কেড়ে নিতে পারেনী। যদিও দিবা শেষে, নিশির তমাসাকে পুঁজি করে, বিধুর প্রানে চেয়ে, নিরবে একাকী লোচন পূর্ণ অশ্রæ ফেলে, ঘুমের ভানে বালিশ বিজাতেন। যেমনটা আমরা ইমাম গাজালী ও ইমাম আবু জাপর ত্বহাবী রহঃ এর জীবনীতে দেখতে পাই। রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ আমি ও এতিমের লালনকারী জান্নাতে এভাবে থাকবো। এ কথা বলে তিনি শাহাদাত ও মধ্যমা আঙ্গুল দেখিয়ে ইশারা করেন।[১২]‏

৬.      মাতার খেদমত:- বাবার ইন্তেকালের পর  এতিম শিশু একাই বাবা-সন্তানের দায়িত্ব পালন করেন। ‏রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم কে প্রশ্ন করা হলো আমার উত্তম ব্যবহারে অধিক হকদার কে? তিনি তিনবার বলেন তোমার মা চতুর্থবার বলেন তোমার বাবা।[১৩]

৭.      মাতার ইন্তেকাল:- বাবা হারা এতিম শিশুকে একাই বাবা-মায়ের পরম স্নেহ দিয়ে, তাকে অলী হওয়ার দোয়া ও সুযোগ করে দিলেন। সে প্রিয় মাকে ১৯৭২ সালে চিরদিনের জন্য বিদায় জানান।  আমরা এমন মহীয়সি নারী ইমাম বুখারী ও আব্দুল কাদের জীলানীর মা।  রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ যে মহিলা স্বামীর সš‘ষ্টি নিয়ে মৃর্ত্যু বরন করে সে জান্নাতী।[১৪]


 তৃতীয় পরি”েছদ: প্রাথমিক জীবন


৮.     শৈশবকাল:-  গ্রামের আর দশটা শিশুর মত বাড়ীর কিংবা পড়শীর আনন্দের খুরাক ও সকলের ¯েœহে সিক্ত ছিল আগামীর পীর ছূফী আব্দুল গনী । শিশুকালেই  অপরিচিত কারো দেওয়া কোন ব¯‘ গ্রহন করতেন না। শৈশব ছিল চারিত্রিক নিষ্কলুষতা, পবিত্রতা ও শিষ্ঠাচারের অপূর্ব সমাহার।

৯.      কিশোরকাল:-  এতিম শিশুটি এলাকাবাসী, বন্ধু- বান্ধব সহপাঠী সকলের ভালবাসায় লালিত-পালিত হয়। তিনি বন্ধুদের মধ্যমনি ছিলেন। কিশোর বয়সে কুসংস্কারের তমাসা থেকে নিজেকে গুটিয়ে রাখেন। বৃদ্ধ বয়সেও শৈশবের অনেক বন্ধুর খোজ-খবর জানতে আসতো কিংবা নিজে গিয়ে তাদের অব¯’ান দেখে আসতেন।


চতুর্থ পরি”েছদ: শিক্ষাজীবন


১০.  প্রাথমিক শিক্ষাজীবন:-  গ্রামের মক্তবেই প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণ করেন। মেধাবী হওয়ায়, বাবা হারা প্রাণ চঞ্চল উদ্দমী এতিম ছেলেকে সকল ছাত্র-শিক্ষক ও এলাকাবাসীর প্রিয় মুখে পরিণত হন।

১১.  শিক্ষাজীবন:- তিনি বলতেন যারা হয় না নয়ে, তারা হয় না নব্বইয়ে। এ বিষয়টি তার জীবনে বেশী প্রতিফলিত হয়েছে। বলুন, জানা আর অজানা ব্যক্তি কি সমান? কেবল জ্ঞানীরাই উপদেশ গ্রহন করতে থাকে।[১৫]  প্রাথমিক শিক্ষা বদরপুর মাওঃ রহমত উল্লাহর (রহ:) কাছে ব্যক্তিগতভাবে শেষ করে, এরপর লাকসাম ফয়েজগঞ্জ মাদ্রাসায় পড়েন। যা বর্তমান নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারী কলেজ। জ্ঞানের আলোর সন্ধানে উ”চ শিক্ষার জন্য আগরতলার কাশিমপুর রেশম বাগান মাদ্রাসায় ভর্তি হন। পাথেয় হিসাবে ছিল মায়ের আচলে লুকানো এক আনা -দু আনা আর এক চিলতে (খন্ড) জমি বিক্রিত টাকা, যা নিয়ে পড়া-লেখা কৃতিত্তে¡র সাথে সমাপ্তি করেন। পরবর্তিতে - অবদী মহন রাজ বাড়ীর পশ্চিমে কৃষ্ণনগর মাইনার স্কুলে ভর্তি হন। এরপর কলকাতায় সার্বেয়ার আমিনতীর উপর ডিপ্লোমা করেন। শরীয়ত ও তরীকতের উস্তাজ ছারছীনা দরবারের প্রতিষ্ঠাতা আল্লামা আলহাজ্জ হযরত মাওঃ নেছারুদ্দীন আহমাদ (রহঃ) এর হাতে মুুরিদ হয়ে, নিজ পীরের পরামর্শে ছারছীনা মাদরাসায় পড়াশুনা করেন।  পরবর্তীতে শায়েখের নির্দেশে দীন প্রচারে ভারতের আগরলায় জান।

রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ যে এলম অর্জনের রাস্তায় আসলো তার জন্য জান্নাতের রাস্তা সহজ করা হবে।[১৬] ‏‏

আমাকে আমার দাদা সুজ্জত আলী বলেন। এবং আমি হুজুরকে পড়া-লেখার বিষয়ে জিজ্ঞেস করি। হুজুর বলেনঃ-ময়ূরা স্কুলে ৬ষ্ঠ শ্রেণী ভর্তি হই, পরে কলিকাতা সার্বেয়ারে (আমিনতি) পড়েন। এর পর ছারছীনার দাদা পীর ছাহেব কেবলার মুরিদ হওয়ার পর, তরীকার ছবকের পাশাপাশি ছারছীনা মাদরাসায় ভর্তি করান। সেখানে তিনি ১৩ বছর অব¯’ান করেন।[১৭]

১২.  সম্মানিত শিক্ষকমন্ডলী ঃ- যে সকল মহান শিক্ষকমন্ডলী থেকে তিনি শিক্ষার্জন করেছেন তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন- ১. আল্লামা আলহাজ্জ হযরত মাওঃ নেছারুদ্দীন আহমাদ (রহঃ), ২.মৌলভী দেলোয়ার সাহেব- নারুয়া, ৩.মৌলভী ছফর উদ্দিন সাহেব, ৪.মাওঃ আব্দুল মাজিদ সাহেব লাকসাম, ৫. মাওঃ রহমত উল্লাহ সাহেব-ঢালুয়া সহ প্রমুখ।

১৩. শিক্ষার্থীবৃন্দঃ- যে সকল শিক্ষার্থী হুজুরের সান্নিধ্যে এসে জ্ঞান চর্চায় নিজেদের আলোকিত করেছেন। তারা হলেন- ১.ক্বারী আব্দুজ্জাব্বার, ২.ক্বারী মুখলেছুর রহমান, ৩.ক্বারী আবুল বশর, ৪. কারী ফতেহ আলী, ৫. কারী আব্দুল হাইসহ প্রমুখ।

[১] .  ﴿ وَاتَّبِعْ سَبِيْلَ مَنْ أنَابَ إلَيَّ ﴾সূরা ৩১: লোকমান : আয়াত-১৫

[২] . ﴿ نَحْنُ نَقُصُّ عَلَيْكَ أَحْسَنَ الْقَصَصِ بِمَا أَوْحَيْنَا إِلَيْكَ هَـذَا الْقُرْآنَ ﴾ .সূরা ১২: ইউছুপ : আয়াত-৩

[৩] . ﴿ لَّقَدْ كَانَ فِي يُوسُفَ وَإِخْوَتِهِ آيَاتٌ لِّلسَّائِلِين ﴾ .সূরা ১২:  ইউছুপ : আয়াত-৭

[৪] . ﴿ لَقَدْ كَانَ فِي قَصَصِهِمْ عِبْرَةٌ لِّأُوْلِي الأَلْبَابِ ﴾.সূরা ১২: ইউছুপ : আয়াত-১১১

[৫] . ﴿  قال‏:‏ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏"‏ خير الناس من طال عمره وحسن عمله ﴾. তিরমিজি শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস নং-৯৯

[৬] . ﴿ هُوَ الَّذِي خَلَقَكُم مِّن تُرَابٍ ثُمَّ مِن نُّطْفَةٍ ثُمَّ مِنْ عَلَقَةٍ ثُمَّ يُخْرِجُكُمْ طِفْلاً ثُمَّ لِتَبْلُغُوا أَشُدَّكُمْ ثُمَّ لِتَكُونُوا شُيُوخاً وَمِنكُم مَّن يُتَوَفَّى مِن قَبْلُ وَلِتَبْلُغُوا أَجَلاً مُّسَمًّى وَلَعَلَّكُمْ تَعْقِلُونَ  ﴾. সূরা ৪০: গাফের/ আল মুমিন : আয়াত-৬৭

[৭] . ডা. কারী দীন মোহাম্মাদ পিতাঃ সুলতান আহমাদ, তিলিপ

৮] . ﴿ قيل ‏:‏ يا رسول الله من أكرم الناس‏؟‏، قال‏:‏ ‏"‏ فيوسف نبي الله بن نبي الله بن نبي الله بن خليل الله.‏﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-৬৯

[৯] . ডা. কারী দীন মোহাম্মাদ পিতাঃ সুলতান আহমাদ, তিলিপ

[১০] . ডা. কারী দীন মোহাম্মাদ পিতাঃ সুলতান আহমাদ, তিলিপ

[১১] . ﴿ يَا أَيُّهَا النَّاسُ إِنَّا خَلَقْنَاكُم مِّن ذَكَرٍ وَأُنثَى وَجَعَلْنَاكُمْ شُعُوباً وَقَبَائِلَ لِتَعَارَفُوا إِنَّ أَكْرَمَكُمْ عِندَ اللَّهِ أَتْقَاكُمْ إِنَّ اللَّهَ عَلِيمٌ خَبِيرٌ ﴾. সূরা ৪৯: হুজরাত: আয়াত-১৩

[১২] . ﴿ قال رسول صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏"‏ أنا وكافل اليتيم في الجنة هكذا‏"‏ وأشار بالسبابة والوسطى ﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-২৬২

[১৩] . ﴿ جاء رجل إلى رسول الله صلى الله عليه وسلم فقال‏:‏ يا رسول الله من أحق الناس بحسن صحابتي‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ أمك‏"‏ قال‏:‏ ثم من‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ أمك‏"‏ قال‏:‏ ثم من‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏أمك‏"‏ قال‏:‏ ثم من‏؟‏ قال‏:‏ ‏"‏ أبوك﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-৩১৬

[১৪] . ﴿ عن أم سلمة رضي الله عنها قالت‏: قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏:‏ ‏"‏ أيما امرأة ماتت، وزوجها عنها راضٍ دخلت الجنة ﴾. তিরমিজি শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-২৮৬

[১৫] . ﴿ قُلْ هَلْ يَسْتَوِي الَّذِينَ يَعْلَمُونَ وَالَّذِينَ لَا يَعْلَمُونَ إِنَّمَا يَتَذَكَّرُ أُوْلُوا الْأَلْبَابِ ﴾. সূরা: ৩৯: যুমার : আয়াত-৯

[১৬] . ﴿ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏"‏ومن سلك طريقًا يلتمس فيه علما سهل الله له به طريقًا إلى الجنة‏"‏. ﴾. মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-১৩৭৯

[১৭] . মজিবুল হক, পিতা: মাস্টার আব্দুল মতিন,কালেম


পঞ্চম পরি”ছদ: কর্মজীবন

১.      হালাল রুজির সন্ধানে:- কলকাতায় সার্বেয়ার আমিনতী পড়া অব¯’ায় সাব-রেজিস্টার অফিসে চাকুরী করেন। পরে ঘুষ গ্রহণে প্ররোচনা দেওয়ায় চাকুরী ছেড়ে বাড়ি চলে আসেন।[১]দ্বিতীয় কর্ম¯’ল:- ২য় বার বরিশাল জেলাধীন বাকেরগঞ্জের সাব-রেজিষ্টার মাহিনীর মৌলভী মঞ্জুর আলী সরর্দারের অধীনে চাকুরী নেন। পরবর্তিতে ছারছীনার দাদা হুজুর কেবলার নির্দেশে মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করে, তা’লিম ও তানজিমের কাজ করে যান।[২] মহান আল্লাহর বানী:- নামায শেষ হলে যমীনে ছড়িয়ে পড়ে, আল্লাহর রিযিক তালাশ করবে এবং আল্লাহকে অধিক স্মরণ করবে। যাতে তোমরা সফলকাম হও।[৩]

২.      মসজিদের দায়িত্ব: বা’ইয়াত হওয়ার পর সাব-রেজিস্টার অফিসে চাকুরী ছেড়ে দিযে উনার পীরের নির্দেশে আগরতলায় দ্বীন প্রচার ও মসজিদের ইমামতীর দায়িত্ব গ্রহন করেন। দেশ বিভাগের পর মোড়েশ^র জামে মসজিদের দায়িত্ব নেন।[৪]রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ তোমরা যখন ইমাম হবে তখন নামাজ সংক্ষপে করবে আর যখন নিজে পড়বে তখন যত ই”ছা লম্বা করবে।[৫]

৩.      কৃষিকাজ ও বৃক্ষ পরিচর্যা:- মোড়েশ^র জামে মসজিদের দায়িত্বের পাশাপাশি নিজেদের ক্ষেত- খামার চাষাবাদ করেন। বাবা বড়ভাই ইন্তেকাল করাতে সংসারে নিজের ভাইয়ের এতিম সন্তান, বোনের সন্তানদের লালন-পালনের গুরু দায়িত্ব সামাল দিতে বিভিন্নমূখী কাজ করতে হয়। বাড়ির আঙ্গিনায় ভিটার পাড়ে ক্ষেতের পাশে প্রচুর গাছ রোপন করেন। সব সময় এগুলোর প্রতি সজাগ দৃষ্টি রাখতেন ও  বৃক্ষ পরিচর্যা করতেন। ডোবাতে ধান করতেন, উচু জমিতে বাদাম, তিলসহ শাক-সবজি বেশি করতেন। এগুলো চাষাবাদের জন্য এক জোড়া হালের গরু ও একটি দুধের গরু পালতেন।[৬]

৪.      কাজে মধ্যমপš’া অবলম্বন:- সকালে এ সমস্ত কাজ তদারকী করতেন এশরাক নামাজ পড়ার পর । এ গুলো সামাল দিতে, গ্রামের দরিদ্র শ্রেণীর প্রতিবেশীদের সারা বছরের জন্য কাজে রেখে দিতেন। তিনি সকল কাজে মধ্যম পš’া অবলম্বন করতেন। সকল কাজের লোকদের সহনীয় পর্যায়ে কাজ করার নির্দেশ দিতেন।  নাস্তা, খাওয়া ও নামাজের সময় কাজ বন্ধ রেখে ধীর¯ি’র ভাবে কাজ ও ইবাদত করার নির্দেশ দিতেন। কাজ না থাকলেও বেতনভাতা ও খাওয়ার ব্যব¯’া করতেন, পাশাপাশি শরীয়তের বিধানাবলী শিক্ষা দিতেন। অধিকাংশ সময় তাদের পরিবারও দেখা শুনা করতেন। রান্নায় চাউল বেশী দেওয়া নির্দেশ দিতেন, যাতে তাদের পরিবারে দেওয়া যেত অথবা কোন সাক্ষাত প্রার্থী কিংবা মেহমান আসলে কাজে লাগে।[৭]


                                           ষষ্ঠ পরি”েছদ: পারিবারিক ও দাম্পত্য জীবন

আত্মীয়তা জীবনের একটি অতীব গুরুত্বপূর্ণ মৌলিক বিষয়। একর্মে তিনি সদা সচেতন ছিলেন। তিনি নিজে কিংবা সন্তানদের বিবাহের ক্ষেত্রে হাদিসের ভাষ্য অনুযায়ী একজন ছেলে কিংবা মেয়ে কেমন হওয়া চাই তার সব কটি  বিষয় লক্ষ রেখেছেন। বিশেলতঃ নিজের ছোট ছেলেকে বিবাহ করানোর ক্ষেত্রে তিনি এক চুল ও ছাড় দেননাই। তিনি ছারছীনা মাদরাসার হেড মুহদ্দিস সাহেবের নাতনী বিবাহ করান।

৫.      বৈবাহিক জীবন:- তিনি বড় ফতেপুর গ্রামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে হাজী সৈয়দ আলীর ছোট মেয়ে সূফীয়া খাতুনকে বিবাহ করেন।[৮]।রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ তোমরা যখন কোন মেয়ে বিবাহ করবে তখন দেখবে, তার সম্পদ, সদ্ববংশ, সুন্দর্যতা এবং ধার্মিকতা, তবে ধার্মিকতাকে অগ্রাধিকার দিবে তাহলে বরকত প্রাপ্ত হবে।[৯]আগরতলার সিরাজ মিয়া ছারছীনার পীর ছাহেব কেবলার পয়ে পড়ে তার মেয়েকে আমার পীর ছাহেব হুজুরের কাছে বিবাহ দিতে অনেক কান্নাকাটী করে, পরে ছারছীনার পীর ছাহেব কেবলার  অনুমতিতে সিরাজ মিয়ার মেয়েকে বিবাহ করেন। বিয়ের অল্প কয়েকদিন পর দেখল তাঁর মেয়ে লুকিয়ে তামাক খায়, আমার পীর ছাহেব হুজুর তাকে নিষেধ করলেন এবং সতর্ক, সে দ্বিতীয়বার ও লুকিয়ে তামাক খায়, সাথে সাথে তাকে তালাক দেয়। বিয়ের পর ৩বিঘা সম্পত্তি দেয়। বাড়ীতে আসার ১ মাসের মধ্যে এ ঘটনা হয়। তালাকের পর আমার বাবাকে সাথে নিয়ে ৩বিঘা সম্পত্তি ফেরত দেয়।[১০]

৬.      পারিবারিক জীবন:- স্ত্রী, ২ ছাহেব জাদা:- আলহাজ্জ মাওঃ আ,ন,ম মাঈনুদ্দীন (৬ ছেলে+৬ মেয়ে), আলহাজ্জ মাওঃ আবু ছালেহ মোহাম্মাদ রুহুল আমীন ছিদ্দীকি (৫ছেলে+২ মেয়ে)। ৩ ছাহেব জাদী:-মোসাম্মাত খাদিজা বেগম- স্বামী আলহাজ্জ ক্বারী মীর মোখলেছুর রহমান (শুকন্তলা মীর বাড়ী, ৫ছেলে+৪মেয়ে)। ২. মোসাম্মাত জুবাইদা খাতুন- স্বামী আলহাজ্জ মাওঃ ইয়াছিন মজুমদার (আশকামতা মজুমদার বাড়ী, ২ছেলে+১মেয়ে)। ৩. মোসাম্মাত রাশেদা খাতুন- স্বামী আলহাজ্জ মাওঃ সাইয়্যেদ আবু তৈয়ব মোহাম্মাদ ইয়াকুব ওয়াজিহী পীর ছাহেব (ডাকরা মীর বাড়ী, ২ছেলে+৬মেয়ে)। পালক পুত্র মাস্টার নুরুল ইসলাম (ময়ূরা) তিনি যায়েদ ইবনে হারেছার মতই ছিলেন।  রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ দুনিয়া হল ভোগের ¯’ান তার মধ্যে উত্তম ভোগ নেককার স্ত্রী।[১১]

৭.      স্ত্রীর প্রতি নির্দেশনা ও তার হক:- আমার সন্তাদের আগলে রাখবে। তাদের জন্য দোয়া করবে। রাসূল পাকصلى الله عليه وسلم  বলেনঃ তোমাদের প্রত্যেকে তত্ত¡াবধায়ক, প্রত্যেকে তার অধিনস্ত বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে, রাষ্টপ্রতি তত্ত¡াবধায়ক, পুরুষ তার স্ত্রীর তত্ত¡াবধায়ক, স্ত্রী স্বামীর সম্পদ ও সন্তানের তত্ত¡াবধায়ক, তোমাদের প্রত্যেকে তত্ত¡াবধায়ক, প্রত্যেক তত্ত¡াবধায়ক তার দায়িত্বের বিষয়ে জিজ্ঞাসিত হবে।[১২]  শরিয়তের নির্দেশিত পš’ায় চলবে। সবাই যেহেতু প্রতিষ্ঠিত যখন যেখানে রিজিকের ব্যাব¯’া হয়, সে ঘরে অব¯’ান করবে। আমার আত্মিয়দের প্রতি খেয়াল রাখবে। আমার প্রতিবেশীদের দিকে সুদৃষ্টি রাখবে। তাদের সুখে সুখি হবে তাদের দুঃখে দুঃখি হবে, কম হোক বেশ হোক তাদের সাহায্য করবে। ‏ অর্থাৎ- রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ হে মুসলিম রমনীগণ অবশ্যই তোমরা একে অপরকে অবজ্ঞা কিংবা কষ্ট দিবে না, বকরী পা দিয়ে হলেও   তাদের সাহায্য করবে। [১৩] আমার ছেলেদের দায়িত্ব তোমার পরিচর্যা করা।  আপনার দাদী কাশফুল কুবুরের মোরাকাবার ছবক চায়, চাচা হুজুর নিষেধ করে। তারপর ও আপনার দাদী  কাশফুল কুবুরের মোরাকাবা করলে বেহুশ হয়ে যায়। তিনি আরো বলেনঃ প্রথমবার ছারছীনার পীর ছাহেব আপনাদের বাড়ীতে আসলে চাচীসহ পর্দা ওপারে অনেক মহিলা বয়াত হয়, প্রত্যেককে ছবকদেন পরে হুজুর মন্তব্য করেন মাতারী যদি পুরুষ হতো আমি তাকেও খেলাফাত দিতাম। [১৪]

৮.     সন্তান ও মুরিদানের প্রতি তার বিষয়ে নির্দেশনা:- আমার ছেলেদের দায়িত্ব তাদের মায়ের খেদমত করা। তাদের মায়ের যাবতীয় প্রয়োজন পুরা করা। মুরিদানের প্রতি নির্দেশনা হল তারা তাদের পীর আম্মার খোজ-খবর নিবে। এক পীর ভাই, অপর পীর ভাই, আপন সহোদরের ন্যায় চলবে। আগে যে এসছে তার প্রতি পীরের ন্যায় মূল্যায়ন করবে। পরে যে এসেছে তাকে ¯েœহ করবে। আমার রেখে যাওয়া সকল নিদর্শন রক্ষা করবে। সকল নির্দেশনা পালন করবে। আমার দরবারের প্রতি খেয়াল রাখবে যথা সম্ভব সাহায্য সহযোগিতা করবে। আমার আমার পরিবারের জন্যে দোয়া করবে, যে খেলাফাতে অধিষ্ঠ তাকে মান্য করবে ও সর্বাত্তক সহযোগিতা করবে। আমার দরবারের ক্ষতি হয় কিংবা তোমাদের ক্ষতি হয় এমন কাজ করবে না। দরবার কিংবা নিজেদের বিপদে একে অপরের পাশে থাকবে। কেউ কারো প্রতি রাগ-ক্ষোভ দেখাবেনা। প্রয়োজনে সৎ পরামর্শ দিবে, অসৎ পরামর্শ দিলে তোমদেরই ক্ষতি হবে। কোন বিষয় মনঃপুত না হলে চুপ থাকবে, বিতর্ক কিংবা অসš‘ষ ছড়াবেনা। প্রয়োজনে বিনয়ের সাথে দরবারের দায়িত্বশীলদের জানাবে। সর্বপরি এ দরবার আমার নির্দেশনায় চলছে ও চলবে কোন বিষয় তোমাদের বুঝে আসবে কোন বিষয় বুঝে আসবে না। দরবার মাহফিল কার্যক্রম যাহাই করে তাহাই আমার নির্দেশনার আলোকে করে। অতএব, তাকে মানা আমাকে মানা, তাঁর বিরুধীতা আমার বিরুধীতা, তার ক্ষতি আমার ক্ষতি। তার সাথে বেয়াদবী আমার সাথে বেয়াদবী। তাকে অবমূল্যায়ন আমাকে অবমূল্যায়ন। এ বিষয় যতেœর সাথে খেয়াল রাখবে। রাসূল পাক صلى الله عليه وسلم বলেনঃ এক মুমিন অপর মুমিনের সম্পর্ক দালানের মত, একে অপরকে ক্ষুভ শক্তভাবে ধরে তোমরাও ।[১৫]হুজুর ইন্তিকালের পূর্বে রান্না করে দিঘির মাছ খাওয়াতাম। ইন্তেকালের পর বড়মাছ পেলে আমি মনে মনে খেয়াল করি হুজুর থাকলেতো দিতে পারতাম। তখন স্বপ্নে দেখি হুজুর বলছেন:- আমার পরিবার কি জীবিত নেই?। [১৬]

[১] . মজিবুল হক, পিতা: মাস্টার আব্দুল মতিন,কালেম

[২] . মজিবুল হক, পিতা: মাস্টার আব্দুল মতিন,কালেম

[৩] . ﴿ فَإِذَا قُضِيَتِ الصَّلَاةُ فَانتَشِرُوا فِي الْأَرْضِ وَابْتَغُوا مِن فَضْلِ اللَّهِ وَاذْكُرُوا اللَّهَ كَثِيراً لَّعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ ﴾. সূরা: ৬২: জুমু’আহ : আয়াত-১০

[৪] . মজিবুল হক, পিতা: মাস্টার আব্দুল মতিন,কালেম

[৫] . ﴿ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏"‏إذا صلى أحدكم للناس، فليخفف، فإن فيهم الضعيف والسقيم والكبير‏.‏ وإذا صلى لنفسه فليطول ما شاء‏" ﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-২২৮

[৬] . মজিবুল হক, পিতা: মাস্টার আব্দুল মতিন,কালেম

[৭] . মজিবুল হক, পিতা: মাস্টার আব্দুল মতিন,কালেম

[৮] মজিবুল হক, পিতা: মাস্টার আব্দুল মতিন,কালেম

[৯] . ﴿ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏"‏تنكح المرأة لأربع‏:‏ لمالها، ولحسبها، ولجمالها، ولدينها، فاظفر بذات الدين تربت يداك ﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-৩৬৪

[১০] . ডা. কারী দীন মোহাম্মাদ পিতাঃ সুলতান আহমাদ, তিলিপ

[১১] . ﴿ أن رسول الله صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏"‏الدنيا متاع، وخير متاعها المرأة الصالحة ﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-২৮০

[১২] . ﴿ عن النبي صلى الله عليه وسلم قال‏:‏ ‏"‏ كلكم راعٍ، وكلكم مسئول عن رعيته، والأمير راعٍ، والرجل راعٍ على أهل بيته؛ والمرأة راعية على بيت زوجها وولده، فكلكم راعٍ، وكلكم مسؤول عن رعيته ﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-২৮৩

[১৩] . ﴿ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم‏:‏ ‏"‏ يا نساء المسلمات لا تحقرن جارة لجارتها ولو فرسن شاة ﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-১২৪

[১৪] . ডা. কারী দীন মোহাম্মাদ পিতাঃ সুলতান আহমাদ, তিলিপ

[১৫] . ﴿ قال رسول الله صلى الله عليه وسلم ‏"‏ المؤمن للمؤمن كالبنيان يشد بعضه بعضًا‏"‏ ﴾. বুখারী+মুসলিম শরীফ: রিয়াদুস ছলিহিন : হাদিস-২২২

[১৬] . মাকু মিয়া মেম্বারের স্ত্রী-ফতেপুর                                    


নবীনতর পূর্বতন